আইপিভি ৬ এ প্রবেশে জোর দিলেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

৭ জুন, ২০২২ ২১:৩৯  
ডিজিটাল প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে আইপিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল ভার্সন)-৬ এ পুরোপুরি প্রবেশের পাশাপাশি টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবার মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। একই সঙ্গে প্রযুক্তির লেটেস্ট ভার্সন ফাইভ জি‘র প্রয়োজনীয়তা এবং এর প্রয়োগ ক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি ও পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিটিআরসিসহ ডাক ও টেলি যোগাযোগ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাসমূহকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, দুটি শিল্প বিপ্লব পুরোপুরি ও তৃতীয় শিল্প বিপ্লব আংশিক মিস করার পর পৃথিবীতে ২০০৮ সালে ডিজিটাল বিপ্লবের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ। এর তিন বছর পর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের শব্দটি প্রথম উচ্চারিত হয়েছে। আট বছর পর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধারণা প্রকাশিত হয়। আমরা ডিজিটাল হাইওয়ে বা ডিজিটাল সংযোগের মহাসড়ক তৈরি করছি। একই সাথে ইন্টারনেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে আমাদেরকেই উদ‌্যোগী হতে হবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আয়োজিত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ‌্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে করণীয় বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বুয়েট-এর অধ‌্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো: খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিটিআরসি‘র চেয়ারম‌্যান শ‌্যাম সুন্দর সিকদার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: মাহবুব-উল-আলম, বিটিসিএল-এর ব‌্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: রফিকুল মতিন এবং বিটিআরসি‘র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: নাসিম পারভেজ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দেশকে এরইমধ্যে ডাটার যুগে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে ভবিষ‌্যত সম্পদের নাম হচ্ছে ডাটা। আমি চাই আমার ডাটা আমার দেশে থাকবে। সেই ব‌্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে । মন্ত্রী আরো বলেন, শিল্প, বাণিজ‌্য, কৃষি ও মৎস‌্য চাষসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ দেশের অর্থনীতিতে অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা করবে। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তাই পরিবর্তিত প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে চলার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার জনক মোস্তাফা কম্পিউটারে বাংলা ভাষা প্রবর্তনে স্টিভ জবসের উদ্ভাবনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে করে বলেন, তিনি কম্পিউটারে ইংরেজী ভাষার বাইরে অন‌্যভাষা প্রয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৮৭ সালে কম্পিউটারে বাংলা ভাষায় পত্রিকা প্রকাশের যাত্রা শুরু করতে পেরিছি। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে অবিসংবাদিত রাজনীতিক শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসুচি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লব মিস করে প্রযুক্তিতে শতশত বছরের পশ্চাদপদতা অতিক্রম করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বিশ্বে নেতৃত্বের থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে একটি যন্ত্র সভ্যতার বিপ্লব আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জাপানসহ পশ্চিমা বিশ্ব এখন ডিজিটাল মানবিক বিপ্লব তথা ৫ম শিল্প বিপ্লবের বা সোসাইটি ফাইভ পয়েন্ট জিরো‘র কথা ভাবছে। এখন আইটি প্রযুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকা নয়, ডিজিটাল প্রযুক্তিই হবে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মূল শক্তি। শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে আইটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দক্ষ ডিজিটাল মানব সম্পদ হিসেবে তৈরি করতে হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রয়োগের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ডিজিটাল প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যাতে মানুষের জীবনধারায় ব‌্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে সে লক্ষ‌্যে সংশ্লিষ্টদের আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান। বিটিআরসি‘র চেয়ারম‌্যান বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ডাটা এনালাইসিস হবে সবচেয়ে দামি। তিনি চ‌্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের উপযোগী করে তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মূলপ্রবন্ধে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বিগ ডাটা অত‌্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে ড. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আমাদেরকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী মানব সম্পদ তৈরি করতে হবে। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছুতে ফাইভ-জি প্রযুক্তি খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করেন।